নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ সায়মা (৩২) মারা গেছেন। এর মাধ্যমে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারালেন।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এর আগে একই ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে মারা যান তার স্বামী কালাম (৩৫) এবং তিন সন্তান—মুন্না (৭), মুন্নি (১০) ও কথা (৭)। পরিবারের প্রথম মৃত্যু ঘটে কালামের, এরপর একে একে সন্তানরা এবং শেষ পর্যন্ত সায়মাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।পরিবারটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকার একটি ৯ তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া এলাকায়। কালাম পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধের মাত্রা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। কালামের শরীর ৯৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ, মুন্নার ৪০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শুরু থেকেই তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার ভোরে রান্নাঘরের গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ফ্ল্যাটের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। এরপর চুলা জ্বালানো বা আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো পরিবার গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে সবাই মারা যান, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
















