বাবার দাফন শেষ করেছেন বিকেলে। রাতেই ফিরেছেন কর্মস্থলে। আর পরদিন সকালে বসতে হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। জীবনের কঠিন বাস্তবতার এমনই এক সংগ্রামের গল্প বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনকে ঘিরে।
ইকন বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা এবং বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে অসুস্থ হয়ে মারা যান। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন ইসরাফিল দাড়িয়া। বড় ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি টাকা উত্তোলন কেন্দ্রে রাতের পালায় খণ্ডকালীন চাকরি করেন।
বাবার দাফন শেষ করেই মঙ্গলবার রাতে তিনি কাজে যোগ দেন। অথচ পরদিন, ২৩ জুলাই, ছিল তার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা।
বাবাকে হারানোর শোক, পরিবারের দায়িত্ব এবং নিজের ভবিষ্যতের লড়াই—সবকিছুর মাঝেও ইকনের দায়িত্ববোধ, পরিশ্রম ও অদম্য মনোবল স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার জন্য এবং তার পরিবারের জন্য সবাই দোয়া কামনা করেছেন।