১৯ বছরের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এবছর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্মজয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানমালা আগামি ২৫ শে মে ‘জাতীয় পর্যায়ে’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কবির বাল্য স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালেই।
শনিবার সকালে ত্রিশালের নজরুল অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় আয়োজিত ১২৭ তম নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সংস্কৃতির বিকাশে করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কাজী রফিজউল্লাহ দারোগার হাত ধরেই ভারতের আসানসোল থেকে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজিরসিমলায় আগমন ঘটেছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের। কবির কৈশরের একটা লম্বা সময় কেটেছিল ত্রিশালে। তার আগমনে বাংলাদেশের মাটি শুধু ধন্যই হয়নি, স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রেরণা ও শক্তি যুগিয়েছিল তার কবিতা ও গান। এসব দিক গুরুত্ব বিবেচনায় সাবেক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ত্রিশালেই জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহনের পর তিন তিনবার ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৫ মে কবির নামে ত্রিশালের নামাপাড়ার বটতলা এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন শেষে, জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানমালায় নজরুল মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া।
প্রতি বছরই ত্রিশালবাসি আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানিয়ে আসলেও ২০০৬ সালের পর বিগত আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালা থেকে বঞ্চিত ছিল কবি নজরুলের বাল্যস্মৃতি বিজড়িত ত্রিশাল। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন এ বিষয়টি উপস্থাপন করলে তা গুরুত্ব পায়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই জন্মজয়ন্তী জাতীয় ভাবে কিভাবে উদযাপন করা যায় সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রাথমিক সভা টি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবছর ত্রিশালেই জাতীয় পর্যায়ে মূল অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহনের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে শনিবার সকালে ত্রিশালের নজরুল অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে ১২৭ তম নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সংস্কৃতির বিকাশে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সংস্কৃতি চর্চায় বিপ্লব ঘটাতে হবে। পুরোনো রেওয়াজ পুণঃরুদ্ধারসহ সুষ্ঠ ধারার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। ভিন্ন আঙ্গিকে, আকর্ষনীয় ও সর্বোচ্চ জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে এবার কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তি পালন করা হবে, আমরা করতে চাচ্ছি। আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে আসবেন, তিনি উদ্বোধন করবেন। তিনি আরো বলেন, সংস্কৃতি অঙ্গনে ময়মনসিংহকে আমরা একটি মডেল হিসেবে দেখতে চাই। মানসম্মত সাংস্কৃতিক একটা ময়মনসিংহ গড়ে তোলার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরি এমপি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে মূখ্য আলোচক ছিলেন ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভালুকা আসনের সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ফুলবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন ও ফুলপুর আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উল্লাহ, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানসহ জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর জেলার জেলা প্রশাসকও বিভাগের সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন রাহনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী।
মতবিনিময় সভা শেষে অতিথিরা বিএনপি সরকারের আমলে নির্মিত নজরুল মঞ্চ, কবি নজরুলের বাল্য বিদ্যাপিঠ নজরুল একাডেমির সংরক্ষিত যে কক্ষে তিনি অধ্যায়ন করতেন সেই জীর্ণ কক্ষসহ কবির বাল্য স্মৃতিবিজড়িত স্থান সমূহ পরির্দশন করেন।