বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ত্রিশালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহড়া: সুষ্ঠু নির্বাচনের দৃঢ় প্রত্যয় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন সাবেক উপাচার্য মোহীত উল আলম বেগম জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফাল্গুন টিভি পরিবারের গভীর শোক প্রকাশ ত্রিশালে ধানের শীষের প্রার্থী ডাঃ লিটনের মনোনয়ন পত্র দাখিল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন ত্রিশালে রাস্তার পাশে পুকুর করায় কাদা খানাখন্দ কাদায় চলাচলে অনুপযুগী রাস্তায় জনদুর্ভোগ চরমে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত ত্রিশালে আন্তর্জাতিক দুনীতি বিরোধী দিবসে মানববন্ধন ও আলোচনা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ত্রিশাল মুক্ত দিবস উদযাপিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

রিপোর্টার নাম :
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ সময় দেখুন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।
এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ হতে চির উন্নত মম শির এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, অনুষদীয় ডিন, শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন বিভাগ, বিভিন্ন হল, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ হতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিজয় শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিজয় শোভাযাত্রা শেষে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। সভায় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদমহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসের এই দিনটি আমাদের চির গৌরবের। যেসব কৃতিত্ব অর্জন করলে গৌরবান্বিত হওয়া যায়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তেমনই একটি বিজয়ের মুহূর্ত। যেমন করে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে ১৯৭১ সালে সবাইকে একত্রিত করেছিল তেমনিভাবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে ২০২৫ সালের এই বিজয় দিবস তেমনি করে যেন অনাগত দিনের জন্য আমাদেরকে ঐক্যদ্ধ রাখে।’
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্য দূর করা। রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক শোষণ-নিপিড়ন দূর করা। বৈষম্যের চরম পরিণতিতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। আমি মনে করি আজকের দিনেও ঐক্যব্ধ হতে হবে যেন সকল বৈষম্য থেকে মুক্তি পাই। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ৭ কোটি জনসংখ্যা ছিল আর পশ্চিম পাকিস্তানে ৫ কোটি। অথচ সামরিক বাহিনীতে শতকরা ৯৫ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তানীদের দখলে ছিল। তার মধ্যে আবার শতকরা ৬০ ভাগ পাঞ্জাবি থেকে, ৩৫ ভাগ পাঠান থেকে এবং মাত্র ৫ ভাগ পূর্ব পাকিস্তান থেকে। রাজনৈতিক দিক থেকে বলতে গেলে ১৯৭০ এর নির্বাচনে জয়লাভ করার পরও আমাদের অন্যায্যভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় নি। সাংস্কৃতিক দিক থেকে আমাদের উপর অন্য রাষ্ট্রভাষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের সাংস্কৃতিক বিকাশকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বয়ং সম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা এসে আমাদের উপর প্রভুত্ব করে বৈষম্য শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টেও বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। এই বৈষম্য অব্যাহত থাকলে আবারও ২০২৪ এর পূণরাবৃত্তি হতে পারে। ১৯৭১ বা ২০২৪ এর শিক্ষা নিয়ে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে স্বাধীন বাংলাদেশকে ন্যায়, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন এক সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি এটাই আজ বিজয় দিবসের প্রত্যাশা।’
আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ সুখন), সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, দোলন-চাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহা. আজিজুর রহমান এবং কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শিশুদের মধ্যে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন হলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ইভেন্ট এবং কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয়। সবশেষে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালা। উল্লেখ্য মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD