বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোপ টেস্ট কিট বিতরণ, এবার উপজেলাতেই হবে মা’দক শনাক্তকরণ পরীক্ষা হালুয়াঘাট পৌরসভার নতুন অর্থবছরের বাজেট ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা হালুয়াঘাটে নিহত গৃহবধূর এতিম দুই সন্তানের পাশে এমপি সালমান ওমর রুবেল ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা, অর্ধশতাধিক আহত, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা, টিএসসি ভবনের দেয়ালে মেসির গ্রাফিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি ড. এমএ হালিম পাটোয়ারী ফুটবলের এক স্বর্ণযুগের অবসানের অপেক্ষায় বিশ্ব নকআউটে নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা, ‘এখনই শুরু আসল বিশ্বকাপ  নালিতাবাড়ীতে বাদাম খেতে গিয়ে শ্বাসরোধ, প্রাণ হারাল সাড়ে তিন বছরের শিশু ধানীখোলা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে ইউএনও, জনসেবার মানোন্নয়নে দিলেন দিকনির্দেশনা

টাঙ্গাইলে ঋণের চাপে পরিচিত নারীকে হত্যা, মুয়াজ্জিনসহ দুইজন গ্রেপ্তার

নিউজ ডেক্স
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৩৫ সময় দেখুন
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলে দীর্ঘদিনের পরিচিত এক নারীকে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনায় স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই মামলায় লুট করা স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।

নিহত নাজমা আলম নাজু (৫১) সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারের বিরুদ্ধে চুরি হওয়া স্বর্ণ কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, গত রোববার নাজমা আলমের বাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোবাইল ফোনের তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে মোশাররফের সঙ্গে নিহতের পরিবারের পরিচয় ছিল। একসময় তিনি একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবেও বসবাস করতেন। পারিবারিক আস্থার কারণে নাজমার বাসার চাবি ও সিসিটিভি ব্যবস্থার তথ্যও তার জানা ছিল।

পুলিশের দাবি, প্রায় ১৫ লাখ টাকার ঋণের বোঝায় থাকা মোশাররফ কিছুদিন আগে নাজমা আলমের কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। কিন্তু সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হলে তিনি লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নাজমা তাকে দেখে ফেললে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন।

ঘটনার পর তিনি প্রায় ২৯ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন ও বালা নিয়ে পালিয়ে যান। যাওয়ার আগে সিসিটিভির ক্যামেরা ভেঙে ডিভিডিও সঙ্গে নিয়ে যান, যাতে ঘটনার কোনো ভিডিও প্রমাণ না থাকে।

পরবর্তীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোশাররফকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ির বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন এবং সন্তোষ কর্মকার চুরি হওয়া স্বর্ণ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুই অভিযুক্তকে মঙ্গলবার টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD