২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক ধরনের আবেগ কাজ করছে। কারণ, এই আসরই হতে পারে বিশ্বের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলারের শেষ বিশ্বকাপ। বয়সের ভার এবং সময়ের বাস্তবতায় ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাদের অনেককেই আর মাঠে দেখা যাবে না।
এই তালিকার শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পরও জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া মেসি এবারের আসরেও রেকর্ড গড়ে চলেছেন। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৯ গোলের মালিক এই কিংবদন্তির বিদায় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডের মালিক হলেও বিশ্বকাপ শিরোপা এখনও অধরা। তাই বিদায়ের আগে শেষবারের মতো সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই মাঠে নামছেন তিনি।
ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচও বিদায়ের পথে। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা ২০১৮ সালে দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থানে তুলেছিলেন। চলতি আসরেও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের বিশ্বকাপ অধ্যায়ও প্রায় শেষ। ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই গোলকিপার এবারের আসরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের ইনজুরি কাটিয়ে ব্রাজিল দলে ফেরা নেইমার জুনিয়রের জন্যও এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন নিয়েই মাঠে লড়ছেন।
বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইনে, নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক, মিসরের মোহাম্মদ সালাহ, সেনেগালের সাদিও মানে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউং-মিনও ক্যারিয়ারের শেষভাগে পৌঁছে গেছেন। তাদের অনেকের কাছেই এবারের বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষ উপস্থিতি হতে পারে।
এক সময়ের দাপুটে এই তারকারা দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেছেন। তাদের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের তারকারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হলেও মেসি, রোনালদো, মদ্রিচ কিংবা ন্যুয়ারদের মতো কিংবদন্তিদের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
**সূত্র: বিবিসি**