বিয়ের কয়েক মাস পর যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় ২০ বছর পর স্বামী মো. সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার নয় স্বজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর রুবিনা বেগম পিংকির সঙ্গে সানাউল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করা হতো। ২০০৬ সালের ২ মে যৌতুক নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা পিংকিকে মারধর ও গরম পানি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২০ বছর পর আদালত সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সানাউল্লাহকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।