সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ত্রিশালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা: আটক দুই ত্রিশালে ৮ বছর পর কবর থেকে এক নারীর লাশ উত্তোলন ত্রিশালে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, হত্যার পর খুনী অনিকের অস্ত্র নিয়ে থানায় আর্তসমর্পন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘Research Software: SPSS’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ত্রিশালে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ত্রিশালে রাজনৈতিক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ গ্রেফতার অধ্যাপক হলেন ডাঃ মোহাম্মদ রেজাউল করিম তালুকদার (রঞ্জু) ত্রিশালে ডা. লিটনের ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ প্রচার ও গন সংযোগ ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আরাফাত, সম্পাদক আশিক নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব দর্শন দিবস উদযাপিত

ত্রিশালে ৮ বছর পর কবর থেকে এক নারীর লাশ উত্তোলন

রফিকুল ইসলাম শামীম
  • আপডেটের সময়: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৩ সময় দেখুন
ত্রিশালে ৮ বছর পর কবর থেকে এক নারীর লাশ উত্তোলন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মৃত্যুর ৮ বছর পর আদালতের নির্দেশে উপজেলার সদও ইউনিয়নের এক প্রবাসীর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া মুক্তা (৫০) নামে এক মহিলার লাশ কবর হতে উত্তোলন করা হয়েছে।
ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগান গ্রামের এক প্রবাসির স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া মুক্তা অসুস্থতা জনিত কারণে ৮ বছর আগে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ বছর পর তার স্বামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একাধিকবার তদন্তে হত্যাকান্ডের আলামত পাওয়া না পাওয়ায়, ডিবি পুলিশ লাশ পুনঃ ময়না তদন্তের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মৃত্যুর ৮ বছর পর বৃহস্পতিবার সকালে কবর থেকে সুলতানা রাজিয়া মুক্তা বেগম নামে ওই নারীর লাশ উত্তোলন করেন। । জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগান গ্রামের আব্দুর রহমানের বড় ছেলে আনিছুর রহমান বাবলুর সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন সুলতানা রাজিয়া মুক্তা বেগমকে। নারী লোভী বাবলুর সঙ্গে মুক্তারও সম্পর্ক খুব বেশি ভালো যাচিছল না। ধৈর্যধারন করতে করতে গর্ভে সন্তান আসে। এর পরপরই ১৯৯৬ সালে অবৈধ পথে স্পেনে পাড়ি জমান। বিদেশ গিয়ে ঠিকমতো মুক্তার কোন খোঁজখবরও রাখতো না, খরচও দিতো না। ২৫/২৬ বছরের মধ্যে ঠিকমতো টাকা পাঠাতো না বলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মিটতো না। হটাৎ একসময় রক্ত স্বল্পতা, হাইপ্রেসার ও কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন মুক্তা। কিন্তুু‘ টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসাও করতে পারেননি। মুক্তার শারিরীক অবস্থা খুব বেশি খারাপ হওয়ায় ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সিবিএমসিবি হাসপাতালে ভর্তি হলে, ৫ দিন পর (১ মার্চ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ৫০ বছর বয়সি মুক্তা । পরে ২০২০ সালে দেশে ফিরেন বাবলু। দেশে ফিরে কুমিল্লার বরড়া থানায় হালিমা নামে এক নারীকে ২০ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করেন। এক বছরও টিকেনি সেই বিয়ে। কাবিনের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে দুই ভাইয়ের যৌথ জমি বিক্রি করে পরিশোধ করতে হয়। বাবলু বিদেশ থেকে ছোটভাই মোশফিকুর রহমান মানিকের কাছে পাঠানো টাকা ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বাঁধে। স্ত্রী মুক্তার মৃত্যুর পর বাবলু ২/৩ বার স্পেন থেকে দেশে আসলেও স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে কোন কথা উঠেনি। ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে, স্ত্রীর মৃত্যুর ৫ বছর পর ২০২৩ সালে বাবলু দেশে ফিরে ত্রিশাল থানায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় মানিককে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক মতিউর রহমান। তিনি একটি ভুয়া মেডিকেল সনদ ব্যবহার করে, মানিককে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত পুণঃ তদন্তের জন্য মামলার দায়িত্বভার দেন সিএইডির কাছে। সিআইডির তদন্তে মেডিকেল সনদটি জাল হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং আদালতে তা দাখিল করা হয়। সিআইডিরতদন্তে নাখোশ হয়ে বাদী নারাজী দেয়। পরে আদালত মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ডিবি পুলিশ অধিকতর তদন্তের নিমিত্তে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষা করার অনুমতির জন্য আদালতের কাছে দেন। আদালত তা মঞ্জুর করলে। এরই ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে কবর থেকে ওই নারীর লাশ উত্তোলন করা হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নূর লিয়া। বাবলুর ভাগনী আমেনা জানান, টাকার অভাবে ঠিকমতো যখন মুক্তা মামী চিকিৎসাও করতে পারতো না, তখন মানিক মামা তাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতো। বাদী বিবাদীর চাচাত ভাই কাউছার আহমেদ বলেন, অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করার পর আমি নিজে স্বাক্ষর করে হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহন করি। শহীদ মিয়া জানান, ভাই ভাইয়ের দ্বন্দে মৃত মানুষকে জড়ানো হয়েছে, এটা খুবই জগন্য কর্ম। মামলা দায়েরে বিলম্বের বিষয়ে আনিছুর রহমান বাবলু জানান, বিষয়টি বুঝতে আমার সময় লেগেছে, সবকিছু জেনে তারপর মামলা করেছি। তারপর কিভাবে বুঝলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মেয়ে ও আম্মা বলেছে আমার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। আমার টাকার হিসেব জানতে চাইলে, মানিক আমার স্ত্রীর বুকের মধ্যে লাথি মারছিলো, হাসপাতালেও নিয়ে যেতে দেয়নি মানিক।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD