ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত কুকুরের দলবদ্ধ ঘোরাফেরা ও তাড়া করার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসে ক্যাম্পাসের ভেতরে অন্তত ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মচারী কুকুরের তাড়া খেয়েছেন। কেন্দ্রীয় মাঠ, সিঙ্গারা হাউস, চারুদ্বীপ, বিদ্রোহী ও অগ্নিবীণা হল এলাকা, নতুন প্রশাসনিক ভবন, দুইটি গেট এবং বটতলা প্রায় সব এলাকাতেই বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ও রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, “হঠাৎ কয়েকটি কুকুর আমাকে ঘিরে ধরে তাড়া করে। কোনোভাবে নিজেকে রক্ষা করেছি। এখন রাতে একা বের হতে ভয় লাগে।”
আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, “সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে সব সময় ভয় কাজ করে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রাণী অধিকারকর্মীরা কুকুর নিধনের পরিবর্তে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ‘জাককানইবি অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক ঐশিক নূর জানান, তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই সচেতনতামূলক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি কুকুর ও বিড়ালকে টিকাদানের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আক্রমণাত্মক আচরণকারী কুকুরগুলোকে আলাদা করে যথাযথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, “কুকুরগুলো সরানোর আগেও চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পৌরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মনে করছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত, কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। নিরাপদ ও স্বস্তিকর ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।