গৌরব ও ঐতিহ্যের ৬৫ বছর পেরিয়ে ৬৬তম বছরে পদার্পণ করেছে দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় । মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
দিনব্যাপী আয়োজনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, কবুতর অবমুক্তকরণ, বেলুন উড্ডয়ন, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হেলিপ্যাড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
পরে হেলিপ্যাডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কবুতর অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর বৃক্ষরোপণ ও ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ভবিষ্যতের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাকৃবির বর্তমান অর্জন শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব ঐতিহ্য ও গৌরব ধরে রেখে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাকৃবির ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গৌরবময় অতীত স্মরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষি, শিক্ষা ও গবেষণায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।