শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ত্রিশাল থানার এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে গুম-চাঁদাবাজির মামলায় বেরিয়ে আসছে ভিন্ন তথ্য একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নাশকতা, সন্ত্রাস, অপপ্রচার ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ত্রিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শ্রমিকদল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে Pathways to Higher Education in Foreign Countries শীর্ষক কর্মশালা বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা ময়মনসিংহে যুবদল নেতা রাজার খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে মানব বন্ধন ময়মনসিংহ নগরীর নওমহল প্রাইমারি স্কুলে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা গাছে ঝুলছিল বড় ভাইয়ের মরদেহ, স্ত্রীসহ লাপাত্তা ছোট ভাই ত্রিশালে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুনামেন্ট এর সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার ৭ আরোহী নিহত

ত্রিশাল থানার এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে গুম-চাঁদাবাজির মামলায় বেরিয়ে আসছে ভিন্ন তথ্য

নিউজ ডেক্স
  • আপডেটের সময়: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৭ সময় দেখুন

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে গুম, মারধর ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি নিয়ে বেরিয়ে আসছে ভিন্ন তথ্য। ত্রিশাল থানার রেকর্ড বিশ্বস্ত সূত্র ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে গেছে- মামলার বাদী নাজমুল হকের পিতা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানার সিআর মামলা নং-৩১২/২৫-এ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় কোর্ট হতে বেশ কিছুদিন আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় ।

জারিকৃত গ্রেপ্তারী পরোয়ানো ত্রিশাল থানায় আসলে গ্রেপ্তারী পরোয়ানার ভিত্তিতে এসআই নাহিদ ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে কয়েকদিন উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বীররামপুর গ্রামে জামাল উদ্দিনের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে জামাল উদ্দিন কে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখে শেষ মেষ ত্রিশাল থানা পুলিশ জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী নাজমুল হকের পিতা জামাল উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর হতে এখনো ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ত্রিশাল থানার সিআর মামলা নং-৩১২/২৫-এ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় এই একই মামলায় এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে গুম ও চাদাদাবী মামলার বাদী নাজমুল হকের ভাই উৎপল মিয়া ও উজ্জ্বল আহমেদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তারা এই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক রয়েছে বলে ত্রিশাল থানা পুলিশ সূত্রে জানাগেছে। এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার বাদী নাজমুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ফিরিস্তির সাথে বেরিয়ে আসছে আরো ভিন্ন তথ্য। যার সব গুলোর ডকুমেন্ট আদালতে ও থানায় রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে আরো জানাযায়-এসআই নাহিদের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী নাজমুল হকের পিতা ও ভাইদের কাছে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির টাকা পাওনা রয়েছে। এসব পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে নাজমুলদের কাছ হতে পাওনাধারদের টাকা আদায়ের চাপ ছিল। সেই সব পাওনাধারদের টাকার চাপের কারনে পাওনাধানদের সাথে নাজমুল হকের পরিবারের সম্পর্ক ভালো ছিলো না। আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, নাজমুল হকের পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। সেই সব লোক জনদের সঠিক ভাবে বিদেশ পাঠাতে না পেরে টাকার চাপে রয়েছেন নাজমুলের পরিবার। সেই সব চাপ দামাচাপা দিতেই এই মামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আমরা ধারনা করছি।

ত্রিশাল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এসআই নাহিদের নামে মামলা করা বাদী নাজমুলের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে আরো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে ত্রিশাল থানা পুলিশের তথ্য ও অনুসন্ধানে জানাগেছে- নাজমুল হকের করা মামলার অভিযোগের সঙ্গে এসআই নাহিদ পারভেজের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পর্যালোচনায় পাওয়া যায়নি। থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি), নাজমুলের করা অভিযোগ, মামলার কাগজপত্র, পত্রিকার কপি ও ভয়েস রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়েছে । সকল পর্যালোচনায় ওই ঘটনার সঙ্গে এসআই নাহিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন।

সূত্রে আরো জানাযায়, ত্রিশাল থানার রেজিস্টার পর্যালোচনা করেও নাজমুল হক থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি মৌখিকভাবেও বিষয়টি থানার কোনো কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন কি না, তারও কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি ।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মনসুর আহম্মেদ বলেন- বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ত্রিশাল থানার এসআই নাহিদ পারভেজ ও স্থানীয় সোহেল মিয়া, ফিরোজসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে গুম, চাদাদাবীর অভিযোগে নাজমুল হক বাদী হয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত ত্রিশাল থানাকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত ১১ জুন ত্রিশাল উপজেলাররামপুর ইউনিয়নের বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হককে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচ থেকে অপহরণ করেন এসআই নাহিদসহ স্থানীয় সোহেল মিয়া, ফিরোজ ও অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন। অপহরণ করে প্রথমে তাকে একটি সিএনজিতে তোলা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে মারধর করা হয়। পরে এক অজ্ঞাত স্থানে আটক রেখে নাজমুলের ফোনেই তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD