ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন – প্রতিদিন সংবাদ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন

ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন

রফিকুল ইসলাম শামীম
  • আপডেটের সময়: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২০ সময় দেখুন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় ময়মনসিংহ ৭ ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী জাতীয়ভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এবারের নজরুল জন্মজয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা ও বইমেলা আয়োজনের পাশাপাশি ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” ঘোষণার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপনের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। সে সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম এ উদ্যোগের সূচনা করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রফেসর আশরাফ সিদ্দিকী। বটতলায় একটি কার্যালয় স্থাপন করে ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ ফোরাম’ নামে সংগঠনটি প্রথমবারের মতো নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জন্মজয়ন্তী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর এই কার্যক্রম নতুন গতি পায়। তবে ১৯৯৬ সালের পর কিছু সময়ের জন্য এ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে ২০০১ সালের পর এবং বিশেষ করে ২০০৩ সালে পুনরায় এটি সক্রিয়ভাবে শুরু হয়।
প্রধান অতিথি স্মৃতিচারণ করে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ত্রিশালে আনার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় তিনি সংসদ সদস্য না হলেও দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ত্রিশালে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতিত্ব করেন এবং সেখানেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার জনগণ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি প্রদান করেছেন এবং প্রয়োজন হলে আরও জমি দিতে প্রস্তুত আছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাইÑজাতীয় কবির নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করার জন্য।” জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যদি জমি দেন, তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।” পরবর্তীতে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াক বেগম খালেদা জিয়া তিনবার ত্রিশাল সফর করেছেন, যা এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদেও তিনি ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
বক্তব্যে তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং তাঁর দপ্তরের মাধ্যমে সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি এটিকে মহান আল্লাহর রহমত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এত দ্রুত এ ধরনের একটি বড় আয়োজন বাস্তবায়িত হবে, তা তিনি নিজেও কল্পনা করেননি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগমনের দিন পুরো অনুষ্ঠানটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং স্থানীয়ভাবে এতে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন আরও একটি সুখবর জানিয়ে বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে এলাকার জন্য একটি বড় অর্জন।
দীর্ঘ আলোচনায় তিনি আরও বলেন, পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিটি দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পঞ্চম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
নজরুল জন্মজয়ন্তীর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ বছর বৃহৎ পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে এবং দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও অনুরাগীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী আগমনের দিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি বইমেলারও আয়োজন করা হবে। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ এপ্রিল শনিবার ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের প্রয়াত ইউএনও রাশেদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রস্তুতি মূলক সভায় এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় এ সময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্জ প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নাল আবেদীন সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইিসিটি) লুৎফুন নাহার, ময়মনসিংহ জেলা ডিজিএফআই এর অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জুলফিকার আহমেদ, ময়মনসিংহ জেলা এনএসআই এর যুগ্ন পরিচালক ড.সুলতানা কানিজ আয়শা, ময়মনসিংহ জেলা ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা খাতুন, সহকারি পুলিশ সুপার (ত্রিশাল -ফুলবাড়ীয়া সার্কেল) হাসান ই¯্রাফীল, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এনামুল হক ভূইয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ্ময়মনসিংহ মহানগর জামাতের আমীর আসাদুজ্জামান সোহেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আনিছুজ্জামান মৃধা, ত্রিশাল উপজেলা জামাতের আমীর আ ন ম আব্দুল্লাহ হিল বাকী, ত্রিশাল পৌর জামাতের সেক্রেটারি এনামুল হক, ত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহাম্মদ, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মুজিব, ত্রিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম শামীম প্রমুখ

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD