কৃষিখাতে ডিজেল নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্মিংহাম সিটি বিশ্ববিদ্যালয়।। এ উদ্যোগের আওতায় ময়মনসিংহের ভালুকায় উদ্বোধন করা হয়েছে ‘স্মার্ট-সিপ প্লাস: বাংলাদেশে সৌরচালিত সেচপাম্পের উদ্বৃত্ত শক্তির বহুমুখী ব্যবহারে উদ্ভাবনী উদ্যোগ’ প্রকল্পের একটি প্রযুক্তি প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ধীতপুরে এ কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্মার্ট-সিপ প্লাস প্রকল্প প্রধান ও যুক্তরাজ্যের বিসিইউ’র অধ্যাপক ড. লিনসি মেলভিল।
যুক্তরাজ্য গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা (ইউকেআরআই) এর অধীন যুক্তরাজ্য সরকারের আয়ারটন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এ প্রকল্প। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি (বিসিইউ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন, ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পপুলেশন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্মার্ট-সিপ প্লাস প্রকল্পের বাংলাদেশের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা, প্রকল্পের যৌথ প্রধান গবেষক ও কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ, যৌথ প্রধান গবেষক ও কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, যৌথ প্রধান গবেষক ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ আল-আমিন এবং প্রকল্পের গবেষক ও কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সানাউল হুদা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহজাবিন কবির, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং যুক্তরাজ্যের বিসিইউ থেকে আগত গবেষক দল।
উদ্বোধনের পর প্রদর্শন কেন্দ্রে থাকা সোলার পাম্প, হলার (ধান ভাঙানোর যন্ত্র), সোলার ড্রায়ার এবং সৌরচালিত মাড়াই যন্ত্র চালিয়ে দেখানো হয়। সৌরশক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রগুলোর কার্যক্রম উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।
পরে ধীতপুরের স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কৃষকরা এ প্রকল্প নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এবং এর মাধ্যমে তারা কীভাবে উপকৃত হচ্ছেন তা জানান।
এসময় অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে চাই। আর সেক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ হলো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার। এই কেন্দ্রে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে জমিতে সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে ধান মাড়াই ও শুকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ডিজেলচালিত যন্ত্রের ব্যবহার কমবে, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষির টেকসই উন্নয়ন হবে।”
স্মার্ট-সিপ প্লাস প্রকল্প প্রধান ও বিসিইউ’র অধ্যাপক ড. লিনসি মেলভিল বলেন, “প্রকল্পের জন্য কৃষক নয়, কৃষকের জন্য প্রকল্প। আমরা এই প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই যাতে তাদের কায়িক পরিশ্রম কমানো যায়। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারে আমরা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। এটি কৃষক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি পর্যায়ের জন্য শক্তির একটি টেকসই সমাধান।”




















