জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৭তম নজরুল জয়ন্তীতে যথাযথ মর্যাদায় কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২৫ মে ২০২৬ (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩) সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ হতে ‘নজরুল ভাস্কর্যে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এসময় ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এবং নজরুল গবেষক, কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার সাথে ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম চেতনার বাতিঘর। তাঁর জীবন ও আদর্শকে আমাদের ধারণ করতে হবে। আমরা যদি তাঁর জীবন ও আদর্শকে ধারণ করতে পারি তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ তথা দেশ আরও সুশৃঙ্খল হবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নজরুল বর্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও জাঁকজমকভাবে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় আমরা সংক্ষিপ্তাকারে উদ্যাপন করলেও পরে আরও বড় পরিসরে উদ্যাপন করা হবে।’ উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘ আমরা গত ১৭বছরে যা পাইনি তা এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সানুগ্রহে পেয়েছি। ত্রিশালে তাই এবার জাতীয়ভাবে নজরুলের জন্মজয়ন্তী উদ্যাপিত হচ্ছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কবি নজরুলকে নিয়ে গবেষণার এক উৎকৃষ্ট স্থান। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক ত্রিশাল নজরুল স্মৃতিতে পরিণত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ত্রিশাল নজরুল স্মৃতিতে পরিণত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রকল্পে থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ঘোষিত নজরুল বর্ষ উদ্যাপনেও নজরুল বিশ্ববিদ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ থাকবে।’
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নজরুল গবেষক, কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।
উল্লেখ্য পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ ছুটি পরবর্তী আগামী ২৪ ও ২৫ জুন বৃহত্তর পরিসরে কবির জন্মজয়ন্তী উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।