বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করেন, পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, শিল্পকারখানার দূষণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রকিবুল ইসলাম রবিন বলেন, “বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে খুব সামান্য অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জিরো প্লাস্টিক ওয়েস্ট’, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা হলে তা অন্যদের জন্যও উদাহরণ হয়ে উঠবে।”
শিক্ষার্থীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাপপ্রবাহ, বায়ুদূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বেড়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাদের মতে, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন কেবল একটি দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর চলমান রাখতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।