ত্রিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাদামাটি আর ভাঙাচোরা খানাখন্দে ভরা বেহাল অবস্থা বিরাজ করায় এই অঞ্চলের সাধারন মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ ছিলে চরমে| রাস্তায় যাতায়াতের দুর্ভোগ গোছাতে অবশেষে এক নতুন দিগন্তে পা রাখতে যাচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা| উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে গ্রহণ করা হয়েছে ১৫৩.৪৩ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্কের এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা| ময়মনসিংহ ৭ ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটনের প্রচেষ্ঠায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে সর্বমোট ৬৫টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত করে ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে| ত্রিশাল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন এই যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন| সংসদ সদস্য ডাক্তার মাহাবুর রহমান লিটন বলেন,একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা| ত্রিশাল উপজেলার প্রতিটি গ্রামকে একটি আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ করতে এই যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে|

তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ প্রকল্পটিতে স্থানীয় জনগণের চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে| গ্রামীণ রাস্তাঘাটের এই আধুনিকায়নের ফলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সহজে এবং ¯^ল্প সময়ে তাদের পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করতে পারবেন যা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বিশাল গতিশীলতা আনবে| স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো সাধারণ মানুষকে| এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেই কষ্টের দিন শেষ হবে|সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ৬৫টি সড়ক নির্মিত হলে ত্রিশাল কেবল যোগাযোগের ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাবে না, বরং এটি একটি আধুনিক, মেধাভিত্তিক ও ˆবষম্যহীন ‘মডেল উপজেলা’ হিসেবে সারা দেশের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে| প্রকল্পগুলোর দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে ত্রিশালবাসী|