সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে লোভনীয় অফার সুলভ মূল্যে ইলিশ মাছসহ নানা আকর্ষণীয় পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।
নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- নড়াইল জেলার কালিয়া থানার ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) ও শহিদুল শেখ (২৩)। এই চক্রের পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুই সদস্যসহ এ নিয়ে মোট ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাদপুর জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, দুটি ভারতীয় সিমসহ মোট ৪৬টি সিম কার্ড এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও এডিট করে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডির মাধ্যমে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, জুতা ও খেলনাসহ নানা পণ্যের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে এসব বিজ্ঞাপন চড়া বাজেটে ‘বুস্ট’ করে এবং ফেক আইডি দিয়ে ইতিবাচক কমেন্ট করিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত।
প্রতারণার কাজে চক্রের সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জাল ট্রেড লাইসেন্স ও ভাউচার ব্যবহার করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করত। ক্রেতারা পণ্য ক্রয়ের জন্য বিকাশ বা অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে অগ্রিম টাকা পাঠানো মাত্রই যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হতো।
এ ঘটনায় গত ২১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের এলআইসি ও ডিবি শাখা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নড়াইলের কালিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আরো জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৭ সেপ্টেম্বর আসামিদের চাঁদপুরে আনা হয় এবং ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিচারকের সামনে সোপর্দ করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এমন তৎপরতা ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।