উৎপাদন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ১ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আড়াই হাজার কর্মীর পেছনে নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয় করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। একই সক্ষমতার একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় মাত্র ৩০০ কর্মীর প্রয়োজন হলেও রাষ্ট্রীয় এই কেন্দ্রে নিয়োজিত রয়েছে আট গুণেরও বেশি জনবল। মাসের পর মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকলেও লোকসানি সংস্থাটিকে এই বিশাল আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বণিক বার্তায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় অবস্থিত ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বর্তমানে বিপিডিবির নিজস্ব জনবল ৭৫০ জন। এর সঙ্গে আউটসোর্সিং কর্মী, বিভিন্ন ইউনিটের সাইট স্টাফ এবং নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক কাজে যুক্তদের মিলিয়ে মোট জনবল প্রায় আড়াই হাজার। বেসরকারি খাতের ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে যেখানে নিরাপত্তা ও প্রকৌশলী মিলিয়ে ৩০০ লোকবলই যথেষ্ট, সেখানে ঘোড়াশালে নিয়োজিত বিশাল এই বহরের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক খরচ জোগান দিতে হচ্ছে আর্থিক সংকটে থাকা বিপিডিবিকে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত জনবল কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে কমিয়ে ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম জানান, বিপিডিবির উচিত নতুন নিয়োগ বন্ধ রেখে এই অতিরিক্ত জনবলকে অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা। বিপিডিবি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় দক্ষতার মাধ্যমে ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড এবং পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কেন্দ্রটির সাতটি ইউনিটের একটিতেও বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ চালু রাখায় বিদ্যমান পাইপলাইনে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, গ্যাস সংকট সমাধানে মনোহরদী থেকে ঘোড়াশাল পর্যন্ত একটি পৃথক পাইপলাইন নির্মাণের সমীক্ষা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রস্তুত হতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে।
কেন্দ্রটির ইউনিটগুলোর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট পুরোপুরি অবসরে গেছে। ৩ নম্বর ইউনিটটি চীনের এইচএসবিসি ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ৪ নম্বর ইউনিটেও সংস্কার কাজ চলছে। এছাড়া পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম ইউনিটও কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পুরনো কেন্দ্রটির উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় বিপিডিবির গড় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটির নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ যেখানে ছিল ৮ টাকা ৪৭ পয়সা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২৬ পয়সায়।