ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা এলাকায় আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভূমি খেকু সেলিম মিয়াও তার দলবলের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে|
অভিযোগে জানাগেছে, প্রবাসী সামাদ এর ভুক্তভোগী পরিবার গত ১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারী করার জন্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন| ভূমি খেকু সেলিম মিয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ১৯ মার্চ সকালে জমি দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করে পরে সেলিম মিয়া ও তার বাহিনী|
৩১ মার্চ ভুক্তভোগী পরিবারের উপর হামলা করে বাদীর চৌচালা ঘর ভাংচুর করে বাদীর লোকজন বাধা দিতে গেলে সেলিম ও তার সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা করে হামলায় নারীসহ অন্তত ৫ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন|
জমির মালিক সামাদ মিয়ার লোকজনকে মারধোর করেই তারা ক্ষান্ত হনননি সেলিম তার বাহিনী নিয়ে গত ৬ এপ্রিল সোমবার বাদীর দখলিয় জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে চার দিক দিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে আটকে দেন| বাদীর দাবী বিবাদী সেলিম মিয়া টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালিয়েছেন| ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বালিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিপাড়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল সামাদ মিয়া ১১০৮০ নং রেজিস্ট্রিকৃত হেবার ঘোষণাপত্র দলিল মূলে এক কাঠা জমির মালিক হন| জমিটি এক সময় পুকুর ছিল| সামাদ মিয়া পুকুরে মাটি ভরাট করে বসবাসের উপযোগী করেন| সেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করে এবং বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে আসছিলেন| জমি কাওলার পর নামজারি ও জমা খারিজ সম্পন্ন করে হাল সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে তিনি জমিটি ভোগদখল করছিলেন|
অভিযোগ রয়েছে, একই বাড়ির সেলিম মিয়া ওই জমির ওপর কুদৃষ্টি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন| সেলিম মিয়া বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করে সে টাকার জোরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন| জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালত উক্ত জমির ওপর গত ১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দেন | আদেশে ত্রিশাল সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বলা হয়েছে বর্তমান দখল কারের দখল অক্ষুন্ন রাখা ও ভূমি নিয়ে যাতে কোন শান্তি ভঙ্গ না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অফিসার ইনচার্জ ত্রিশাল থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন|
গত ৬ এপ্রিল সোমবার সামাদ মিয়ার লোকজন জমিতে পরিচর্যা করতে গেলে সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সামাদ মিয়ার ঘরে হামলা চালায়| এসময় সামাদ মিয়ার পিতা ওমর আলী, আব্দুল মতিন, ফারজানা, রোকিয়া ও রাব্বীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে| এরপর সন্ত্রাসীরা সামাদ মিয়ার তিলে তিলে গড়ে তোলা ঘরটি গুঁড়িয়ে দেয় এবং জমিটি জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে দখলে নেয়|
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছামাত মিয়ার পিতা ওমর আলী( ৮০) বলেন, আমার ছেলে ছামাত মিয়া পুকুর ভরাট করে ঘর তুলেছিলাম, ফসল বুনেছিলাম| সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসীরা আমার ঘর ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে| আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা এই কাজ করেছে| আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি|
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে|