মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ক্লিন তারাকান্দা’ অভিযানে পরিচ্ছন্নতার আহ্বান, নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর ত্রিশালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার, শুরু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইয়াবার ছোবলে বিপন্ন তরুণ প্রজন্ম, বাড়ছে আসক্তির ভয়াবহতা প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের তাগিদ দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন মেশিনে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ, আহত সারজিস ও নাসীরুদ্দীন গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পাঁচ দিনজুড়ে বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে ভারি বর্ষণ দেশেই উন্নত হেপাটাইটিস বি চিকিৎসা নিশ্চিতের ওপর জোর দিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ইয়াবার ছোবলে বিপন্ন তরুণ প্রজন্ম, বাড়ছে আসক্তির ভয়াবহতা

নিউজ ডেক্স
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

 

একটি ছোট্ট রঙিন ট্যাবলেট, কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ ধ্বংসের গল্প। মেথঅ্যামফিটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রণে তৈরি ইয়াবা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে দেশের তরুণ সমাজকে। মাদকটির প্রভাবে শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, ভেঙে পড়ছে পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম *দ্য আইরিশ টাইমস*-এর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইয়াবা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এই মাদক, যার কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণ-যুবক আসক্তির ঝুঁকিতে পড়েছেন।

প্রতিবেদনে এক ইয়াবা আসক্ত ব্যক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলা হয়, দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণের ফলে তিনি নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনও হারিয়ে ফেলেছেন। আগে পোষা পাখির যত্ন নেওয়া, স্বাভাবিক জীবন কাটানো তার অভ্যাস থাকলেও এখন নিজের যত্ন নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইয়াবা তার চিন্তাশক্তি ও মানসিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। কয়েক ঘণ্টার জন্য সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মানুষের শরীর ও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বাড়ছে মাদকাসক্তির ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা বর্তমানে দেশের অন্যতম উদ্বেগজনক মাদক। অনেক ক্ষেত্রে তরুণরা ধূমপান বা গাঁজা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ইয়াবার দিকে ঝুঁকে পড়ে। একপর্যায়ে অনেকে নিজেরাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যায় আসক্তির খরচ চালাতে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হতাশা, উদ্বেগ, পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিও অনেককে মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্ট নেই। ফলে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তারা মনে করেন, মাদকাসক্তিকে শুধু অপরাধ হিসেবে না দেখে একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

সীমান্তপথে আসছে ইয়াবা

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সিন্থেটিক মাদকের বিস্তার বাড়ছে। বিশেষ করে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওস সীমান্তবর্তী ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ মেথঅ্যামফিটামিন উৎপাদন ও পাচারের তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশে আসা ইয়াবার বড় একটি অংশ মিয়ানমার থেকে সীমান্তপথে প্রবেশ করে বলে ধারণা করা হয়। সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে এটি তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ধ্বংস হচ্ছে সম্ভাবনাময় জীবন

প্রতিবেদনে এক আসক্ত ব্যক্তির বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ইয়াবা শুরুতে আনন্দ বা আত্মবিশ্বাসের অনুভূতি তৈরি করলেও ধীরে ধীরে এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। অনেক আসক্ত ব্যক্তি পরিবার, বন্ধু ও সামাজিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

দীর্ঘদিন ইয়াবা সেবনে ঘুমের সমস্যা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, দাঁতের ক্ষতি, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এবং নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবার বিরুদ্ধে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা, তরুণদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা।

কারণ ইয়াবার বিরুদ্ধে লড়াই শুধু একটি মাদকের বিরুদ্ধে নয়, এটি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD