ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহের চোরখাই এলাকায় ট্রাকচাপায় সাদিয়া আফরিন ইভা নামে এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় তার স্বামী মেহেদী হাসান গুরুতর আহত হন।
ইভা ভালুকা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম হাফেজ হাবিবুল্লাহর বড় মেয়ে। তিনি ভালুকার ভান্ডাবহ এলাকায় অবস্থিত আফতাব উদ্দিন কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী মেহেদী হাসান ভালুকা পশু হাসপাতালে চাকরি করেন। তাদের সংসারে প্রায় ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
ইভার অকালমৃত্যুতে আবেগঘন একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাংবাদিক জরুল ইসলাম জুয়েল। তিনি ইভাকে নিজের নাতনি হিসেবে উল্লেখ করে তার সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ইভা তার স্বামীকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন। পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় তারা ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ভ্রমণে যান। সেখানে ইভা তার স্বামীকে অনেক মর্মস্পর্শী কথা বলেন।
নৌকা ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে মেহেদী শেষবারের মতো ইভাকে একগুচ্ছ বেলি ফুল কিনে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইভা। আর তার নিথর দেহের পাশেই পড়ে ছিল স্বামীর কিনে দেওয়া সেই বেলি ফুলের মালা—যা স্বজনদের কাছে হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক এক স্মৃতি।
জরুল ইসলাম জুয়েল তার স্ট্যাটাসে ইভার মেধা, শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের স্মৃতিও তুলে ধরেন। অল্প নম্বরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারলেও পরে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ইভা। প্রায় দুই বছর আগে এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মস্থলেও সুনাম অর্জন করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে সাংবাদিক জুয়েল আরও লেখেন, ছোটবেলা থেকে ইভাকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন তিনি। তাই তার এই অকালমৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর ২টায় ভালুকা ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে ইভার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।