ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা ভেঙে গঠিত নতুন ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলার প্রশাসনিক ভবন সরকারি গেজেট অনুযায়ী উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজাতেই নির্মাণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলাবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নতুন উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
সকাল থেকেই কান্দিপাড়া বাজারে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজারো মানুষ জড়ো হন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে কান্দিপাড়া বাজার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম. আনছার উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, পাগলা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, পাগলা থানা জাসাসের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন অনুযায়ী উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজাতেই দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি ও বিলম্ব ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি গেজেটের বাইরে অন্য কোথাও উপজেলা সদর স্থানান্তরের কোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। দ্রুত গেজেট অনুযায়ী নয়াবাড়িতেই প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানান বক্তারা।
সমাবেশ শেষে কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয় গেট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নয়াবাড়ি গ্রামের প্রস্তাবিত উপজেলা সদর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২৩তম সভায় গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, পাইথল, লংগাইর, নিগুয়ারী, দত্তেরবাজার ও টাঙ্গাব—এই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে ৮ জুলাই প্রকাশিত সরকারি গেজেটে উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ি মৌজায় নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ১৪ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও জারি করা হয়।