মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত যুবক আরাফাত খানের কবর দাফনের পর থেকেই চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। লাশ চুরির আশঙ্কায় প্রতিরাতে কবর পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, আরাফাতের কবরের পাশে বসে আছেন তার বাবা জসিম খান। সন্তানের কবর অক্ষত রাখতেই রাতভর সেখানে অবস্থান করছেন তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। জসিম খান জানান, তার ছেলে দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, “অনেকের মুখে শুনেছি, বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ চুরির ঘটনা ঘটে। সেই ভয় থেকেই আমরা কবর পাহারা দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, অসুস্থতার কারণে সবসময় নিজে পাহারা দিতে পারেন না। তাই ঋণ করে লোক নিয়োগ করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক সংকট আরও বাড়ছে। “সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তবুও ছেলের কবর রক্ষায় প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি কবর পাহারার ব্যবস্থা করত, তাহলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম, যোগ করেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টিকে অত্যন্ত মানবিক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে পরিবারটি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পায়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে আরাফাত খান নামে এক যুবক এবং রিজান ঢালী নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।