দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবিহীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্ভাব্য এই সময়সীমাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচন কোন স্তর থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সিটি করপোরেশন অথবা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে ভোট আয়োজনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরবর্তী সময়ে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের নীতিগত আগ্রহ রয়েছে। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ভোটার তথ্য ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বড় কোনো ঘাটতি নেই। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে বিদ্যমান বিধিমালার কয়েকটি ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রচারণা পদ্ধতি, প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা এবং জামানত সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সেবা কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাই।