শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করেছে পতিত সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমাদের প্রতি চারজনের মাঝে একজন যুবক ছিল। কিন্তু সেটা কাজে লাগায়নি পতিত সরকার। একটা দেশের সাথে কতোটা গাদ্দারি করলে জনশক্তিতে জনগণের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ০.৭%। শিক্ষায় যেই শিক্ষার্থী ১২ টা শ্রেণি সম্পন্ন করেছে, তার স্থান হচ্ছে পাঁচ ধাপ নিচে।
তিনি আরও বলেন, পতিত সরকার জনমিতিক বোঝা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। জনমিতিক যেখানে লভ্যাংশ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে জনমিতিক বোঝা নিয়ে আমরা বাস করছি। শিক্ষিত বেকারত্বের হার বেড়েছে। ২০২০ থেকে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশে যাদের শিক্ষা নেই, কর্মসংস্থান নেই ও প্রশিক্ষণ নেই এমন মানুষের সংখ্যা ৪১%। এদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ৬২%। বেকারত্বের সংখ্যা ২০২০ সাল থেকে দিন দিন বেড়ে গেছে।
এছাড়াও তিনি বলেন, এসব থেকে উত্তরণ করতে হবে। আমরা শিক্ষা খাত ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শিক্ষা খাতে, ২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২.৫ শতাংশ। আমরা শিক্ষাখাতে পরিবর্তন দেখতে চাই ও গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় নারীর আনুষ্ঠানিক খাতে অংশগ্রহণ বেড়েছিল যা আমাদের রপ্তানি বাড়িয়ে দিয়েছিল। এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন। কারণ আমরা নারীর অগ্রগতি দেখতে চাই।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দীন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. কে. এম. মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।