ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভাড়া নিয়ে চালানো একটি দোকানঘর উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে । ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য এবং ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি। প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালে আগমন করার ঠিক পূর্বমুহূর্তে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই যুবদল নেতা। ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ দোকানটি হারানোর পর হুমায়ুন কবির তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে লেখেন:
> “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ত্রিশালে আপনি আগমন করার পূর্বে ১৭ বছরের আন্দোলন, মামলা, হামলা, জেল-জুলুমের পুরস্কার হিসেবে আপনার প্রশাসন, আপনার নেতারা আমার পেটে লাথি দিল। জানি বিচার পাব না, কিন্তু বিএনপি করি— এই কষ্টে লিখলাম।”
তার এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগীর দাবি স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির বিগত ১৬ বছর ধরে ত্রিশাল উপজেলায় একটি দোকানঘর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এর মাধ্যমেই চলত তার পরিবারের জীবিকা। তবে সম্প্রতি ত্রিশাল পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আইনি বাধ্যবাধকতা ও নিয়মের অজুহাত দেখিয়ে তার কাছ থেকে দোকানটির দখল নিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তার দোকানটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেই দোকানটি অন্য ব্যক্তিদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অবস্থান
এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জায়গা বা নিয়মবহির্ভূতভাবে থাকা স্থাপনার বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এমন একটি ঘটনা এবং ভুক্তভোগী নেতার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ত্রিশাল এলাকায় মানুষের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন ও সংবেদনশীল পরিবেশ বিরাজ করছে।