বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একে একে ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল চার শ্রমিকের ত্রিশালে যুবদল নেতার দোকান উচ্ছেদ: ‘১৬ বছরের জীবিকা’ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ বাংলার বাঘের গর্জন: পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বন্দরে থাই নাবিককে ছুরিকাঘাত, আটক একজন ময়মনসিংহ জেলা পর্যায়ে ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ল দরিরামপুর মডেল সপ্রাবি জাকার্তায় বিশ্বজয়: আন্তর্জাতিক কোডিং, এআই ও রোবটিকস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নশিপ ভালুকায় উদ্বোধন হলো সৌরচালিত কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দেশের আকাশে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বুলিংবিরোধী পথ নাটকে শিক্ষার্থীদের সাড়া আইনজীবী সমিতিতে সালিশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত ১০–১২, আটক ৭

একে একে ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল চার শ্রমিকের

নিউজ ডেক্স
  • আপডেটের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৮ সময় দেখুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে চার নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ধর্মতীর্থ গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে আরমান মিয়া (২১), গলানিয়া পশ্চিমপাড়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে ইমাম হোসেন (৩৪), একই এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (৩২) এবং দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। দুপুরের দিকে ট্যাংকের ভেতরে থাকা দুই শ্রমিকের কোনো সাড়া না পেয়ে আরও দুই শ্রমিক তাদের উদ্ধারে নিচে নামেন। পরে তারাও নিখোঁজ হয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে কাজ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে অক্সিজেনের ঘাটতি বা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেও এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিক আলী মিয়া পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত আরমানের চাচা আব্বাস আলী অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির মালিকের চরম গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনো প্রকৌশলীর তদারকি ছাড়াই গভীর সেপটিক ট্যাংকে শ্রমিকদের নামানো হয়েছিল। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহত হৃদয় মিয়ার শাশুড়ি সালমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে আজ বিধবা হয়ে গেল। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD