ময়মনসিংহ অঞ্চলে সম্ভাব্য শক্তিশালী ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বিকল্প ও টেকসই জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর রাখা যায়- এ বিষয়ে এক্সারসাইজ ও মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এ্যামেচার রেডিও এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ARAB)-এর কারিগরি সহযোগিতায় এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ময়মনসিংহ বিভাগের ‘দি লাইফ সেভিং ফোর্স’-এর বাস্তবায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সারাদেশে ৮টি বিভাগে এমহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহড়ায় ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেটসহ প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর বা সীমিত হয়ে পড়লে জরুরি তথ্য আদান-প্রদান, উদ্ধার কার্যক্রমের সমন্বয় এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে যোগাযোগ কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, তার বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. জানে আলম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী, পিএফএম।মহড়া বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোফাজ্জল হোসেন, পিএফএম। এছাড়া ফোরম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র স্টেশন অফিসার মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল মালেক, ও মো. কবিরুল আলম
স্টেশন অফিসার মো. জুলহাস উদ্দিন ও মো. হাবিজুর রহমান এবং সহকারী যোগাযোগ প্রকৌশলী মো. মিজানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মহড়ায় দুর্যোগের সময় দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় বার্তা প্রেরণ ও গ্রহণ, উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ প্রচলিত যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।আয়োজকদের মতে, সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শুধু উদ্ধার কার্যক্রম নয়, দুর্যোগের আগে থেকেই নির্ভরযোগ্য জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। এ ধরনের মহড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।