প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও মিথ্যা প্রচারণা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পরিষদ। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজ।
রিজভী বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খাল খনন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ধরনের সরকারি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বিরোধী দল বুঝতে পারে না বিএনপি সরকার কী পরিবর্তন করেছে। কয়েক মাসের শাসনামলে গুম নেই, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নেই, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নেই, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়েনি। এটাই পরিবর্তনের চিত্র।”
কৃষি খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় পাটের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়তেন, এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটত। বর্তমানে কৃষকরা পাটের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে রিজভী বলেন, “আপনারা বলেন আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করায় ক্ষমতায় আসতে পারেননি। অথচ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ১৮টি আসন পেয়েছিলেন, আর জোট ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পেয়েছিলেন মাত্র তিনটি আসন।”
কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে রিজভী বলেন, বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও নজরুল ছিলেন মানবতা, প্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত আজও মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও নজরুলের গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর আদর্শ গ্রাম থেকে শহর—সবখানে ছড়িয়ে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ফ্যাসিবাদের ফাঁদে কেউ পা দেবেন না। এটি ফিরে এলে আমরা কেউ নিরাপদ থাকব না।”
জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আহমুদুল হক চৌধুরী স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নজরুল গবেষক ড. মুন্সি আবু সাইফ ও সহযোগী অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী পারভেজুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।