নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আগামী পাঁচ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করেছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিনের কর্মসূচি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের রোডম্যাপ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, পরিবারভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৬০ হাজারের বেশি পরিবার এই সুবিধার আওতায় এসেছে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পাশাপাশি শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাতে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১৩ লাখ কৃষককে উপকৃত করবে। স্বাস্থ্য খাতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রথম পর্যায়ে পাঁচ জেলার মানুষ এ সুবিধার আওতায় আসবেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ভাতা কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ৩ কোটির বেশি চারা রোপণ করা হবে। শিক্ষা খাতে দুই লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষা ঋণের সীমা বৃদ্ধি, ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতা, ইউনিয়ন ও উপজেলায় খেলার মাঠ নির্মাণ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রমের বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম চালুর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।