জাতীয় কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এ নির্ভয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও ড্রামা চেম্বারের সহযোগিতায় যুব সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রদর্শিত হয়েছে পথ নাটক ‘অদৃশ্য ক্ষত’। রবিবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের বেদীতে নির্ভয় ফাউন্ডেশন ও ড্রামা চেম্বারের সদস্যদের সমন্বয়ে নাটকটি প্রদর্শিত হয়। নাটকের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে বুলিং বা মানসিক নির্যাতন রুখে দেওয়া এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানানো।
নাটকে গল্পের শুরু হয়েছে ‘নিলয়’ নামের এক তরুণকে কেন্দ্র করে। সমাজের চারপাশের মানুষের ক্রমাগত বুলিং, উপহাস এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে একপর্যায়ে নিলয় চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। তবে গল্পের মোড় ঘোরে যখন তার পাশে এসে দাঁড়ায় তার এক সহমর্মী বন্ধু ‘অর্পিতা’। অর্পিতার নিঃস্বার্থ মানসিক সমর্থন, ভালোবাসা এবং সঠিক দিকনির্দেশনায় নিলয় জীবনের নতুন আলো খুঁজে পায়। সে তার আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আবার স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা লাভ করে।
নজরুল ভাস্কর্য চত্বরে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পথচারীরা নাটকটি বেশ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে থেকে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জানান, “বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিষণ্ণতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এমন সময়ে ড্রামা চেম্বারের এই পথ নাটক যুব সমাজকে সচেতন করতে এবং তাদের মানসিক শক্তি জোগাতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
নাটকের নিলয় চরিত্রে অভিনয়কারী ড্রামা চেম্বারের সদস্য তবিবুর রহমান মুন্না বলেন, “আমাদের সমাজে বুলিং বা কাউকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করাটাকে খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এর ফলে একজন মানুষের মনে যে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে, তা আমরা অনেকেই উপলব্ধি করি না। নিলয় ও অর্পিতার চরিত্রের মাধ্যমে আমরা এই মেসেজটিই দিতে চেয়েছি যে, আমাদের একটু সহানুভূতি, সচেতনতা এবং মানসিক সাপোর্ট একটি মূল্যবান প্রাণ বাঁচিয়ে দিতে পারে। ড্রামা চেম্বারের পক্ষ থেকে আমরা যুব সমাজকে আহ্বান জানাই, আসুন আমরা বুলিং রুখে দাঁড়াই এবং একে অপরের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হই।”
অর্পিতা চরিত্রে অভিনয়কারী নির্ভয় ফাউন্ডেশনের সদস্য রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, “‘অদৃশ্য ক্ষত’ নাটকে অর্পিতা চরিত্রে অভিনয় করা আমার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। যদিও এটি একটি সহায়ক চরিত্র তবুও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া নিলয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা দেখানোর মাধ্যমে চরিত্রটির গুরুত্ব ছিল অনেক গভীর। নাটকটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং বোঝানো যে, একজন মানুষের পাশে সামান্য সহানুভূতি নিয়েও দাঁড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই নাটকের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।”
নির্ভয় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হিমেল বলেন, “আমাদের পথনাটক ‘অদৃশ্য ক্ষত’-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা এবং এ বিষয়ে নীরবতা ভাঙা। আমরা দেখাতে চেয়েছি, মানসিক কষ্ট সবসময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ, একাকীত্ব ও হতাশা বেড়ে যাওয়ায় এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা খুব জরুরি। তাই পথনাটকের মাধ্যমে মানুষকে সহমর্মী হতে, মন খুলে কথা বলতে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যদি একজন মানুষও নিজের অনুভূতি প্রকাশের সাহস পায়, তাহলেই আমাদের উদ্যোগ সফল।
নাটকটির সমাপ্তি ঘটে বুলিংমুক্ত সমাজ গড়ার এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বন্ধুদের পাশে থাকার এক দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে।