ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিপন মিয়া (১৮) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত শিপন মিয়া উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী মরিচারচর এলাকায় ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে একটি ফুচকার দোকানে অর্ডার দেওয়াকে কেন্দ্র করে মরিচার ও পাশের চরআলগী গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি এবং পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।
ঘটনাটি মীমাংসা করতে এগিয়ে যান স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম মিয়া। পরে রাতে তাকে উচাখিলা বাজার থেকে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার জেরে রোববার দুপুরে ইব্রাহিমের সমর্থকরা চরআলগী গ্রামে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলার সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।আহতদের মধ্যে শিপন মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আযম জানান, বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের ঘটনায়ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।