মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে মাজারের মহিলা ঘাটের পাশ থেকে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘির পূর্ব পাশের নারী ঘাটে গোসল করতে নামলে মাজারে থাকা কুমিরটি ফাতেমাকে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটার পরপরই চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
মাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফাতেমা আক্তার মাজার এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে বসবাসরত এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। তার পরিবারের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ঘাটে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গোসল করতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার এবং উপস্থিত লোকজনের আর্তচিৎকার শোনা গেলেও কুমিরের ভয়ে কেউ পানিতে নামার সাহস করেননি।
ঘাটের পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের শরীরের কয়েকটি স্থানে কুমিরের কামড়ের চিহ্ন রয়েছে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহটি মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দাফনসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটির নাম রাখেন কালা পাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটার নাম ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।