গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের অবৈধ পুশইনের ৮টি পৃথক চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে তিন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করে। একইভাবে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্তে সাত ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা চালানো হলে বিজিবি দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্তে আরও চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের প্রবেশ ঠেকানো হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে এবং সেখানে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০ জন ব্যক্তিকে কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করানোর ঘটনা নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি।
অন্যদিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জড়ো করে রাখা ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও বাহিনীটি জানিয়েছে।