ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কংস নদী থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও পরে মরদেহে আঘাত ও নির্যাতনের বিভিন্ন আলামত দেখে ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ জোরালো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিশুটি উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংঙ্গাটি গ্রামের বাসিন্দা নিশামনি (৫)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৫টার দিকে আসরের নামাজের পর বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে চা-বিস্কুট খেয়ে বের হয় নিশামনি। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। শিশুটির নিখোঁজের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রাও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন।পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় কয়েকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন।স্বজনদের অভিযোগ, নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় গোসল করানোর জন্য মরদেহ প্রস্তুত করতে গিয়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন, গলা ও বুকে কামড়ের মতো দাগ এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে রক্তক্ষরণের আলামত দেখতে পান তারা। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই শিশুহত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
নিহত শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েটা বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এমন নির্মমভাবে আমার নিষ্পাপ সন্তানকে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এর আগে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটেনি। তারা দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
খবর পেয়ে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরদিন সোমবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরে কিছু সন্দেহজনক আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।