দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন পর্তুগিজ ফুটবল কিংবদন্তি। এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার ‘জামাই’ও হয়ে গেলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
মঙ্গলবার পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে জর্জিনার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন রোনালদো। বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর প্রতিনিধিরা। ঘরোয়া এই আয়োজনে দম্পতির পাঁচ সন্তানও উপস্থিত ছিল।
বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার আগে কয়েক দিন ধরেই রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে জর্জিনার হাতের ওপর ছিল তাঁর হাত, দুজনের অনামিকায় শোভা পাচ্ছিল আংটি। ক্যাপশনে ছিল ‘C’ ও ‘G’—দুই অক্ষরের মাঝে ভালোবাসার ইমোজি। এতেই ভক্তদের কাছে বিয়ের খবর পরিষ্কার হয়ে যায়।
গত বছরের ১১ আগস্ট বাগ্দানের খবর জানিয়েছিলেন জর্জিনা। অনামিকায় বড় একটি আংটি পরা অবস্থায় রোনালদোর হাতের ওপর নিজের হাত রেখে ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ঠিক এক বছর পর সেই সম্পর্ক পেল পূর্ণতা।
প্রথম দেখাতেই প্রেম
জর্জিনার জন্ম আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। ২০১৬ সালে মাদ্রিদে গুচির একটি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় রোনালদোর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। জর্জিনার ভাষায়, সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’।
দীর্ঘদিন প্রেমের পর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের। একই বছর মে মাসে জর্জিনার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনেন রোনালদো।
২০২৫ সালে ভোগ অ্যারাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জিনা বলেছিলেন, রোনালদোর সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমরা একে অপরকে চিরকাল ধরে চিনি।’
কোথায় হলো বিয়ে?
রোনালদোর বিয়ের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আগে থেকেই নানা গুঞ্জন ছিল। পর্তুগালের সিনত্রা, এমনকি রোনালদোর জন্মশহর মাদেইরার ফুনশালের একটি গির্জা নিয়েও আলোচনা চলছিল।
রোনালদোর বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদেইরার ওই গির্জার সামনে শত শত মানুষ ভিড়ও করেন। পরে অবশ্য জানা যায়, সেখানে বিয়ে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সৈকত শহর কাসকাইসকে বিয়ের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেন রোনালদো ও জর্জিনা। সেখানে তাঁদের একটি ভিলাও রয়েছে।
পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পরিবার
রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র ২০১০ সালে জন্ম নেয়। তাঁর মায়ের পরিচয় কখনো প্রকাশ করেননি রোনালদো। ২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে যমজ সন্তান ইভা মারিয়া ও মাতেওর বাবা হন তিনি।
এর পাঁচ মাস পর জর্জিনার কোলে আসে তাঁদের মেয়ে অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভে জন্ম নেয় যমজ সন্তান বেলা ও অ্যাঞ্জেল। দুঃখজনকভাবে জন্মের কিছুক্ষণ পরই মারা যায় অ্যাঞ্জেল।
মাঠেও দুর্দান্ত রোনালদো
ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের পাশাপাশি মাঠেও নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিচ্ছেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটানোর পর বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরে খেলছেন তিনি।
ক্যারিয়ারে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর ও পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন রোনালদো। ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালিতেও জিতেছেন লিগ শিরোপা। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোল করার রেকর্ডও তাঁর দখলে।
দীর্ঘ এক দশকের প্রেম, পরিবার ও অসংখ্য স্মৃতির পর এবার স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নতুন জীবন শুরু করলেন রোনালদো ও জর্জিনা। আর জর্জিনার জন্মভূমি আর্জেন্টিনার সঙ্গে নতুন এক সম্পর্কও তৈরি হলো—ফুটবলবিশ্বের কিংবদন্তি রোনালদো এখন আর্জেন্টিনার ‘জামাই’।