কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক কিশোরী ও নিহতের এক বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম ওই গ্রামের হাজি এনামুল হকের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিহত সিয়ামের সঙ্গে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এক কিশোরীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের রাতে কিশোরীটি সিয়ামের বাড়িতে আসে। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, তার বন্ধু আরিয়ান এবং কিশোরী অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ভোরে কিশোরীকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সিয়ামকে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে কিশোরী ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক কিশোরী ও একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সিয়াম ও আটক কিশোরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।