একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে ইতিহাস থেকে একাত্তর এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’ একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের অবদানও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন?’ তাঁর দাবি, এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও উঠেছে।
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও বন্দি করে রাখার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সন্তানের মৃত্যুর সময়ও খালেদা জিয়াকে বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
রিজভী আরও অভিযোগ করেন, একটি পরিবারকে পর্যুদস্ত করা এবং জনগণের মধ্যে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা কমিয়ে দেওয়ার জন্য তৎকালীন সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল একজন ‘অবৈধ ফ্যাসিবাদী শাসকের’ প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়াও সন্তানদের নিয়ে বন্দি ছিলেন। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই পরিবারকে ধ্বংস করতে শেখ হাসিনা নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, সেখানে দাঁড়িপাল্লায় একাত্তরকে হালকা এবং জুলাই আন্দোলনকে ভারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি এটিকে ‘ছোটলোকামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একাত্তর, নব্বই ও ছিয়াশির আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে একটি পক্ষ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এখন জুলাই আন্দোলনকে পুঁজি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপি সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিল দাবি করে রিজভী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে একাধিকবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সবাইকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটিও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।