ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আফরোজ খান স্কুলের সন্নিকটে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দিনের আলোয় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় ৭টার দিকে জনাকীর্ণ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ সময় আশপাশে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে এই ধরনের দুঃসাহসিক আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বেড়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা বিভিন্ন অজুহাতে পার পেয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতা’র দাবি তুলে দায় এড়ানোর প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ম ধারা ছাড়াও দণ্ডবিধির ২৯৪ ও ৫০৯ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। এসব ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে কয়েক বছর থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শুধু শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না—পাশাপাশি অপরাধীর মানসিক পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং নিশ্চিত করাও জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল স্কুল কর্তৃপক্ষকে আইনি পদক্ষেপ নিতে এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব।