শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে মোতাহার হোসেন তালুকদারের দায়িত্ব গ্রহণ সংসদে এমপির পরিবারের মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তুঙ্গে নেত্রকোণার দুই উপজেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাছ শিকারির কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অভিনেতা জোভান ও তাঁর স্ত্রী সায়েন্টিফিক আমেরিকানের ‘উদীয়মান বিজ্ঞানী’ তালিকায় বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা Slotozen Review: Quick Registration Steps for Australian Players চুরির সন্দেহে নির্যাতন, ছাত্রাবাসে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর মৃত্যু মাথা নত করে সম্মান’ জানানোর প্রথা আগেই বাতিল, জানালেন স্পিকার জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী বিচারকের আদালতে আত্মসমর্পণ, জামিন চাইলেন অভিনেতা জাহের আলভী

সায়েন্টিফিক আমেরিকানের ‘উদীয়মান বিজ্ঞানী’ তালিকায় বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা

নিউজ ডেক্স
  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৪৮ সময় দেখুন

বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ বা উদীয়মান বিজ্ঞানীদের প্রথম তালিকায় স্থান দিয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যাকে। অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর (Supermassive Black Hole) এবং গ্যালাক্সির সক্রিয় কেন্দ্র নিয়ে তার যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখা থেকে নির্বাচিত মাত্র ২৮ জন সম্ভাবনাময় তরুণ গবেষকের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া ড. তনিমার এ অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তার গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় বস্তুগুলোর একটি—অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর। তিনি অনুসন্ধান করছেন, কীভাবে এসব কৃষ্ণগহ্বর আশপাশের গ্যাস ও পদার্থ শোষণ করে এবং সেই প্রক্রিয়া একটি গ্যালাক্সির গঠন, বিকাশ ও বিবর্তনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকানে প্রকাশিত তার পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ঢাকায় বেড়ে ওঠা তনিমার মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা হয়েছিল শৈশবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য তারা তার মনে মহাবিশ্ব সম্পর্কে গভীর কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। সেই কৌতূহলই একসময় তাকে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার জগতে নিয়ে আসে।

বিভিন্ন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ড. তনিমা কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশের গ্যাস ও ধূলিকণার আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, তার গবেষণা মহাবিশ্বের বিবর্তন, গ্যালাক্সির বিকাশ এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সায়েন্টিফিক আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী। দুই শতাধিক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা ও লেখা প্রকাশিত হয়েছে এ সাময়িকীতে। চলতি বছর প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকাটি ভবিষ্যতের বিজ্ঞান নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাময় গবেষকদের স্বীকৃতি দিতে প্রণয়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুমের বড় মেয়ে। তার এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞানমনস্ক মহলেও আনন্দ ও গর্বের সঞ্চার হয়েছে।

বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ড. তনিমার এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি মেধা, গবেষণা সক্ষমতা এবং সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি। তার সাফল্য নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে বলেও তারা মনে করছেন।

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উদ্ঘাটনে তার গবেষণা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন বিজ্ঞানী সমাজের।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 প্রতিদিন সংবাদ
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD