জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টাসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। 
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং পলাতক রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ের কার্যক্রম সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে শুরু হয়। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রায় সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চাইলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। এরপর বিটিভিতে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির হাত থেকে বাঁচতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে ভবনের ছাদে পৌঁছে গেলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। সেই অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।