দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় রূপ দিতে আগামী জুলাইয়ের বাজেট থেকেই ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের ট্যাবলেট (ট্যাব) সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রোববার (২৮ জুন) সকালে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরীক্ষা ও শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে সরকারের দৃঢ় অবস্থান এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় দেশজুড়ে নকল প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছিল। সেই সময়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্তমানে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে কাজ করছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্যামেরা শুধু পরীক্ষার নকল রোধেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষকরা নিয়মিত ও মানসম্মতভাবে পাঠদান করছেন কি না, সেটিও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অতীতের বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গও তোলেন ড. এহসানুল হক মিলন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভিত্তিহীন মামলা দেওয়া হয়েছিল, যদিও তদন্তে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি তুচ্ছ অভিযোগে দায়ের করা মামলায়ও দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গ্রামীণ এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বদলি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তদবিরনির্ভর সংস্কৃতি পরিহার করে যৌক্তিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারও বাস্তবায়ন করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।