সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম, আর সেই সম্পর্কের পরিণতি হলো বিয়ে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের তরুণী নাজমিন আক্তার লিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন চীনের যুবক ওয়্যাং সুলিন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নতুন নাম নিয়েছেন মো. নুর উদ্দিন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাজমিন আক্তার লিজা মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দিন স্থানীয় একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
অন্যদিকে, চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। তিনি ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে চীনে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে লিজা ও ওয়্যাং সুলিনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি দুই পরিবারকে জানানো হয়। উভয় পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর লিজার পরিবারের সদস্যরা তাকে গ্রহণ করে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। এরপর ২১ জুলাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মো. নুর উদ্দিন নাম ধারণ করেন তিনি। একই দিন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুজনের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি পাত্রকে ঘিরে প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই সতর্ক ছিল কনের পরিবার। লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, চীনে থাকা পাত্রের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নুর উদ্দিন চীনে ফিরে গিয়ে ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করবেন। এরপর লিজাকে চীনে নিয়ে যাবেন।
বিদেশি জামাইকে ঘিরে মোহনগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কৌতূহল নিয়ে নবদম্পতিকে দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করছেন। অনেকেই চীনা জামাইয়ের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, বিদেশি পাত্রকে নিয়ে প্রথমে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিয়ে দেওয়ায় এখন আর কোনো সংশয় নেই। তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের কামনা করেন।